নিচে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করে দেওয়া হলো:
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরুর প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে অন্তত ১ হাজার ১৩০ কোটি (১১.৩ বিলিয়ন) ডলার। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মার্কিন কংগ্রেসের এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর হিসাব দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার এ তথ্য জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটরদের জন্য আয়োজিত এক বৈঠকে জানানো হয়, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫৬০ কোটি ডলারের গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এটি যুদ্ধের মোট খরচ নয়, বরং প্রাথমিক একটি হিসাব মাত্র। সংঘাত নিয়ে আইনপ্রণেতাদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে হোয়াইট হাউস এই তথ্য দিতে বাধ্য হয়েছে।
কংগ্রেসের সহযোগীরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের বাড়তি খরচ মেটাতে হোয়াইট হাউস দ্রুতই নতুন তহবিলের আবেদন করতে পারে। এই আবেদনের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত কমিয়ে দিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সদস্যরা। মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প আগে থেকেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল, তার ওপর এই নতুন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাতটি বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
যুদ্ধের স্থায়ীত্ব বা মোট ব্যয়ের বিষয়ে প্রশাসন এখনো জনসমক্ষে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেয়নি। তবে গতকাল কেন্টাকি সফরের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, "আমরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছি।" তবে লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও লেবাননে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংঘাতের ফলে বিশ্ব জ্বালানিবাজার ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং যুদ্ধ পরবর্তী ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে প্রকাশ্য জবাবদিহি দাবি করেছেন।
মন্তব্য করুন