ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ‘৩০১ ধারা’র অধীনে সম্প্রতি দুটি পৃথক তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। একটি বৈশ্বিক শিল্প খাতে ‘অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’ এবং অন্যটি ‘জোরপূর্বক শ্রম’ নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর বাণিজ্যনীতি বাংলাদেশের রপ্তানি মডেলের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান এক বিশ্লেষণে এই পরিস্থিতির গভীরতা তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম তদন্তটি মূলত বিদেশি ‘অতিরিক্ত সক্ষমতা’ কীভাবে তাদের দেশীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তা নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রায় ৬০০ কোটি ডলার, যার বড় অংশই তৈরি পোশাক খাত নির্ভর।
যদিও বাংলাদেশের দাবি, এই প্রবৃদ্ধি ভারী শিল্পের ভর্তুকি নয় বরং বেসরকারি উদ্যোক্তা ও শ্রমঘন উৎপাদনের ফল। তবুও এই তদন্তের ফলে যদি শাস্তিমূলক শুল্ক বা বাণিজ্য সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়, তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়বে।
দ্বিতীয় তদন্তটি ‘জোরপূর্বক শ্রম’ নিয়ে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশের পোশাক খাতে ব্যাপক সংস্কার এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা উন্নত হলেও শ্রম ব্যবস্থাপনা এবং অধিকার বাস্তবায়নে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। সরবরাহ শৃঙ্খলের কিছু অংশের অনানুষ্ঠানিকতা বৈশ্বিক মানদণ্ডের বিচারে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেবল কম খরচ ও বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকার যুগ শেষ হয়ে আসছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:
প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি: শ্রম পরিদর্শন, স্বচ্ছতা ও কমপ্লায়েন্স পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা।
বাজার বৈচিত্র্যকরণ: একক বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন রপ্তানি গন্তব্য খোঁজা।
মানোন্নয়ন: সস্তা শ্রমের বদলে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং উন্নত মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা।
ড. সেলিম রায়হানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই তদন্তগুলো কেবল হুমকি নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’। স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে।
মন্তব্য করুন