আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। শিয়া প্রধান দেশটিতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ নির্বাচনের দায়িত্ব দেশটির ৮৮ জন আলেম নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ওপর ন্যস্ত।
বর্তমানে এই দৌড়ে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন:
১. মোশতাবা খামেনি: আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। তিনি পর্দার আড়ালে থেকে দেশটির ক্ষমতা কাঠামো ও আইআরজিসি-র (IRGC) ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। যদিও বংশানুক্রমিক নেতৃত্বের বিষয়ে খামেনির নিজের কিছুটা অনীহা ছিল বলে শোনা যায়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী।
২. গোলাম হোসেইন মহসেনি-এজেই: ইরানের বর্তমান বিচার বিভাগের প্রধান। তিনি দেশটির নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এবং খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। খামেনির পছন্দের তালিকার শীর্ষে তাঁর নাম রয়েছে বলে অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে।
৩. হাসান খোমেনি: ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। তিনি তুলনামূলক সংস্কারপন্থী ও মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত। তরুণ প্রজন্ম ও জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা থাকলেও কট্টরপন্থীরা তাকে কতটা মেনে নেবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
৪. আলীরেজা আরাফি: প্রভাবশালী ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর সদস্য এবং জামিয়া আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান। তিনি দেশটির আলেম মহলে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন।
৫. মোহাম্মদ মেহদি মীরবাঘেরি: কট্টরপন্থী এই আলেম পশ্চিমা বিরোধী হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস-এর মধ্যে থাকা অতি-রক্ষণশীল গোষ্ঠী তাকে পরবর্তী নেতা হিসেবে দেখতে চায়।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন নেতা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করতে পারে। তবে আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থা ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার মুখে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন