
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ঢাকা ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক অভিযান এবং চলমান সংঘাত কেবল একটি আঞ্চলিক অস্থিরতা নয়, বরং এটি বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের সীমাবদ্ধতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের এই প্রাথমিক পর্যায়টি ওয়াশিংটনের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা, যা বিশ্বব্যবস্থায় দেশটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা দেখে ক্রমবর্ধমান বিস্ময় লক্ষ করা যাচ্ছে। ইসরায়েলি নেতৃত্ব লড়াই চালিয়ে যেতে সংকল্পবদ্ধ হলেও, ওয়াশিংটনের অনেক মিত্র এই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করায় ওয়াশিংটন এখন গোপনে কোনো ‘দক্ষ মধ্যস্থতাকারী’ খুঁজছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রাশিয়া ইরানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। মস্কোর কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনেকটা চিকিৎসাশাস্ত্রীয় উপমা ‘নিওপ্লাজম’ বা টিউমারের মতো—যা শরীরের অংশ হয়েও এক বিশেষ ও জটিল ভূমিকা পালন করে।
বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে ইউরোপের বিধ্বস্ত দশা, চীনের অস্থিরতা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিচ্ছিন্নতাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল, তার ঐতিহাসিক কারণগুলো এখন আর বিদ্যমান নেই। ফলে একক আধিপত্যের দিন ফুরিয়ে আসছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমিত শক্তি: পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি না নিয়ে ইরানের মতো লড়াকু দেশকে কাবু করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ: যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন।
রাশিয়ার কৌশল: রাশিয়া মনে করে, একটি সুষম আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের অবসান জরুরি, যা মস্কোর দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের অনুকূল।
নতুন সমীকরণ: ইউরোপ ও চীনের ওপর মার্কিন চাপ অনিচ্ছাকৃতভাবেই একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা তৈরির পথ প্রশস্ত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বরাজনীতি থেকে এখনই হারিয়ে যাবে না। তবে দেশটি আর ‘একক মোড়ল’ হিসেবে নয়, বরং একজন ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে টিকে থাকবে। ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থা হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও জটিল। বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ছাড়াই যদি এই রূপান্তর সম্পন্ন হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রাসঙ্গিক থাকলেও অন্যদের ওপর হুকুম চালানোর সক্ষমতা হারাবে।
সংক্ষেপে, ইরান সংকট কেবল একটি যুদ্ধ নয়, এটি মার্কিন আধিপত্যের অবসানের এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।