
নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে দেশের জ্বালানি খাত। এখন থেকে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলা কমাতে এবং জ্বালানি তেলের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার চালু করছে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল 'ফুয়েল পাস'। এই বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই এখন থেকে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজনীয় পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবেন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা এবং দেশে অবৈধ মজুত ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি এপ্রিল মাস থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
১. নিবন্ধন: প্রথমে গ্রাহককে তার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে।
২. কিউআর কোড: নিবন্ধন সফল হলে অ্যাপে একটি ইউনিক কিউআর কোড তৈরি হবে।
৩. স্ক্যানিং: ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার সময় পাম্পকর্মী গ্রাহকের মোবাইলে থাকা কোডটি স্ক্যান করবেন।
৪. কোটা নির্ধারণ: প্রতিটি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর (সাপ্তাহিক বা মাসিক) একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেলের কোটা থাকবে। একবার তেল নেওয়া হলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা আপডেট করে দেবে, ফলে একই গাড়ি বারবার তেল নিতে পারবে না।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনেক সময় আতঙ্কিত হয়ে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করে, যার ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। নতুন এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন কোনো যানবাহন তেল পাবে না এবং তেলের অপচয় রোধ হবে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সব ধরনের যানবাহনকে এর আওতায় আনা হবে।
ইতিমধ্যেই দেশের কয়েকটি জেলায় যেমন—ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা ও সিরাজগঞ্জে সীমিত পরিসরে ম্যানুয়াল কার্ডের মাধ্যমে এর ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে। এখন সেটিকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপ দিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অ্যাপভিত্তিক সেবা চালু হলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।