
১. কুসুম গরম পানি ও তরল খাবার: শীতকালে শরীর আর্দ্র রাখা খুব জরুরি। সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে কুসুম গরম পানি পান করুন। এটি শ্বাসনালীতে জমে থাকা শ্লেষ্মা বা কফ নরম করতে সাহায্য করে। এছাড়া আদা চা বা তুলসি পাতার চা ফুসফুসের আরামের জন্য বেশ কার্যকর।
২. মাস্ক ব্যবহার ও ধুলাবালি থেকে দূরে থাকা: বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করুন। মাস্ক কেবল করোনা বা ফ্লু থেকে রক্ষা করে না, এটি নাক-মুখ দিয়ে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস ঢোকা প্রতিরোধ করে এবং ধুলাবালি থেকে ফুসফুসকে বাঁচায়।
৩. শরীর গরম রাখা ও গরম কাপড়ের ব্যবহার: হঠাৎ করে ঠান্ডা লাগলে হাঁপানির টান বাড়তে পারে। তাই বাইরে বের হলে পর্যাপ্ত গরম কাপড়, মাফলার এবং কানটুপি ব্যবহার করুন। ঘর যাতে স্যাঁতসেঁতে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন এবং রোদ থাকলে বিছানা-বালিশ মাঝে মাঝে রোদে দিন।
৪. ইনহেলার ও ওষুধ সাথে রাখা: অ্যাজমা রোগীদের জন্য ইনহেলার একটি জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই প্রয়োজনীয় ইনহেলার সাথে রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ডোজ গ্রহণ করুন। সামান্য শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
৫. অ্যালার্জি ও ধূমপান এড়িয়ে চলা: শীতের পিঠা-পুলি বা খাবারে অনেকের অ্যালার্জি থাকতে পারে। যেসব খাবারে অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্ট বাড়ে সেগুলো এড়িয়ে চলুন। এছাড়া পরোক্ষ ধূমপান থেকেও দূরে থাকুন, কারণ সিগারেটের ধোঁয়া শ্বাসনালীর মারাত্মক ক্ষতি করে।
যদি দেখেন ইনহেলার নেওয়ার পরও শ্বাসকষ্ট কমছে না, ঠোঁট বা আঙুলের নখ নীল হয়ে যাচ্ছে কিংবা কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে—তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।
বিশেষ পরামর্শ: ঠান্ডা লাগা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে গার্গল করা অভ্যাস করুন। এটি গলা পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করবে।