
ভোর থেকে রাজধানীর আকাশ ও পথঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় কয়েক হাত দূরের জিনিসও দেখা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলে সড়কগুলোতে যানবাহনগুলোকে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে বিমানবন্দরে বিমান চলাচল এবং নৌপথে ফেরি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে বলে জানা গেছে।
তীব্র এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল বাসিন্দারা। ভোরবেলা কাজের সন্ধানে বের হওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও হকারদের কনকনে ঠান্ডায় কাঁপতে দেখা গেছে। গরম কাপড়ের অভাবে রাস্তার ধারে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেক অসহায় মানুষ।
হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে ঠান্ডা, কাশি, হাঁপানিসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন কুয়াশার দাপট এবং মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রচণ্ড শীতের এই পরিস্থিতিতে ছিন্নমূল মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।