
আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তি হলো একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী, কোনো দেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। মাদুরো সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র 'অবৈধ' ঘোষণা করলেও, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো যুদ্ধ বা অপরাধের শক্ত প্রমাণ ছাড়া সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ বা রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে আনা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনেকেই ১৯৯০ সালে পানামার শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি এবং ভেনেজুয়েলার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন। মাদুরোর পেছনে রাশিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তির সমর্থন থাকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানসহ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ এনেছে এবং তার মাথার ওপর পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞারা মনে করেন, কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্য দেশের আদালতে বিচার করা 'হেড অফ স্টেট ইমিউনিটি' বা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়মুক্তির কারণে বেশ জটিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তবে সরাসরি একক কোনো দেশের ক্ষমতা দখলের আইনি বৈধতা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য মাদুরোকে সরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে সরাসরি দেশ 'চালানো' বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেয়ে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধী দলকে শক্তিশালী করাকেই এখন পর্যন্ত প্রধান কৌশল হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
পরিশেষে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশের সরকার পরিবর্তনের অধিকার কেবল সেই দেশের জনগণের। জোরপূর্বক কাউকে তুলে আনা বা দেশ পরিচালনার চেষ্টা আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে অবৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।