
বাংলাদেশের মেধা ও মননের আকাশে যে কজন নক্ষত্র উজ্জ্বল হয়ে আছেন, অধ্যাপক আনিসুর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি কেবল একজন প্রথাগত অর্থনীতিবিদ ছিলেন না; ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, গবেষক এবং এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও জাতীয় আন্দোলনের এক নিভৃতচারী পথপ্রদর্শক। তাকে হারানোর অভাব আজও বাংলাদেশের জ্ঞানচর্চার জগতে অপূরণীয়।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অধ্যাপক আনিসুর রহমানের অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। অস্থায়ী সরকারের পরিকল্পনা সেলের সদস্য হিসেবে যুদ্ধকালীন অর্থনীতি এবং পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অধ্যাপক আনিসুর রহমান সেই বিরল মেধাবীদের একজন, যারা তাত্ত্বিক অর্থনীতির জটিল সমীকরণকে সাধারণ মানুষের মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে জানতেন।
অধ্যাপক রহমানের অর্থনীতি ভাবনা ছিল সাধারণ মানুষের কল্যাণকেন্দ্রিক। তিনি বিশ্বাস করতেন, উন্নয়ন মানে কেবল জিডিপির প্রবৃদ্ধি নয়; বরং মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা। তার রচিত অসংখ্য বই ও গবেষণাপত্র আজও উন্নয়ন অর্থনীতির ছাত্র ও গবেষকদের কাছে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে সমাদৃত। তার বিশ্লেষণে ফুটে উঠত আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রকৃত রূপ এবং প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই।
যারা তার সরাসরি ছাত্র হতে পেরেছেন, তারা জানেন আনিসুর রহমান মানেই ছিল স্বচ্ছ চিন্তা আর গভীর অন্তর্দৃষ্টির এক মহামিলন। শ্রেণিকক্ষে তিনি জটিল বিষয়গুলোকে অতি সহজে উপস্থাপন করতেন। তর্কের চেয়ে তিনি তরুণদের মৌলিক চিন্তায় বেশি উদ্বুদ্ধ করতেন। তার প্রতিটি কথা এবং স্মৃতি আজও তার অনুসারীদের মনে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।