
২০২৫ সালে ১৪ লাখ বাংলাদেশিকে ভিসা দিয়েছে সৌদি আরব
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:১১
২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মোট ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি আরব। এর মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজারই ছিল কর্মসংস্থান বা কাজের ভিসা। বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ফেসবুক পোস্টে এই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সৌদি আরবকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্মরণ করেন যে, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়ার সৌদি সফরের কথা উল্লেখ করে দুই নেতা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ়করণে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, উভয় দেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সমন্বিত অংশীদারিত্বে রূপ দিতে সৌদি আরব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে বর্তমানে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড (ভিশন ২০৩০) চলমান থাকায় দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সামনে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে সৌদি আরবের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তিনি তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে দেশটির আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে রোববার সকালে সৌদি রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রতিমন্ত্রী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে গৃহীত 'ভিশন ২০৩০' এবং বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।