
নিজস্ব প্রতিবেদক, dainiksomoybangla | ঢাকা
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জানা গেছে, বিশাল এই আর্থিক সংশ্লেষ সামাল দিতে সরকার ৩ ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি অর্থ প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি সচিবালয়ে কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পে-স্কেল পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
১. তিন ধাপে বাস্তবায়ন: একবারে পুরো বর্ধিত বেতন কার্যকর করা সরকারের বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করবে। তাই কৌশলগত কারণে এটি তিন বছরে বা তিন ধাপে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে পারে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে বাকি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা যোগ করা হবে।
২. প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো: পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ গ্রেডে বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের বৈষম্য কমিয়ে ১:৮ অনুপাতে আনার চেষ্টা চলছে।
৩. বর্তমান অবস্থা: গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পে-কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভা এই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাজেট সমন্বয় সাপেক্ষে খুব দ্রুতই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
এই খবরে সচিবালয় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে রেখেছে। অন্যথায় ঈদের পর বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি রয়েছে তাদের।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপের ঘোষণা আসতে পারে, যা সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে।