নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের অনেক গ্রামের এখন একটাই লক্ষ্য—পড়াশোনা থাক বা না থাক, যেকোনো মূল্যে পৌঁছাতে হবে ইতালি। সেই ইতালির স্বপ্নে বিভোর হয়ে উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছরের তরুণ ফাহিম। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ফাহিমের সলিলসমাধি হয়েছে সাগরের লোনা জলে। ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় কাতর হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া এই তরুণের লাশটিও শেষবারের মতো দেখতে পাননি তার পরিজন।
ফাহিমের পরিবার মোটেও অসচ্ছল ছিল না। তার বাবা সৌদি প্রবাসী, সন্তানের জন্য দামি মোটরসাইকেল আর স্মার্টফোনসহ সব আবদারই পূরণ করেছিলেন। কিন্তু এলাকার অন্যান্য তরুণদের ইতালি যাওয়ার হিড়িক আর টাকার প্রতিযোগিতায় শামিল হতে গিয়ে জীবনটাকে বাজি ধরেছিলেন ফাহিম। মৃত্যুর আগে ফেসবুকে শেষ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন তার মায়ের কথা, মানিব্যাগে রাখা মায়ের ছবি দেখিয়ে বলেছিলেন—দেশে এক গ্লাস পানিও নিজে হাতে খেতেন না তিনি। অথচ সেই আদরের সন্তানই এখন চিরতরে হারিয়ে গেছেন।
প্রতিযোগিতার বলি হচ্ছে মেধাবী ছাত্ররা:
এটি কেবল ফাহিমের একার গল্প নয়। অনেক এলাকায় এখন ঘরে ঘরে চলছে ইতালি যাওয়ার প্রতিযোগিতা। পড়াশোনা শেষ করার আগেই অনেক বাবা-মা দালালদের কাছে অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখছেন সন্তানদের লিবিয়া হয়ে ট্রলারে পাঠানোর জন্য। সচ্ছল পরিবার হওয়ার পরেও তারা বলছেন—"এটুকু রিস্ক পুরুষদের নিতেই হয়।" পড়াশোনা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই, লক্ষ্য একটাই—মাসে লাখ লাখ টাকা পাঠানো।
এমনকি দেখা গেছে, কোনো কোনো স্কুলের একটি নির্দিষ্ট ব্যাচের সব ছাত্রই এখন পড়াশোনা ছেড়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার পথে। এই মরণনেশা ও সম্পদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের যুবসমাজকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফাহিমের মৃত্যু যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—টাকার কাছে জীবনের দাম আজ কতটা সস্তা হয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন