Deleted
প্রকাশ : Dec 30, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরানোর চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কাটছে না অস্থিরতা। একদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের তোড়জোড়, অন্যদিকে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংস ঘটনায় জনমনে নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল সংশয়। এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে একটি ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক সহিংসতা ও জনমনে উদ্বেগ

গত কয়েক দিনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড, গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনাগুলো নাগরিকদের ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে শাহবাগে অবরোধ ও সীমান্ত দিয়ে অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার খবর সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে—আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কি আদৌ সম্ভব? আর যদি হয়, তবে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু থাকবে?

প্রশাসন ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

২৪ ডিসেম্বর মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে উঠে এসেছে নানা আশঙ্কাজনক তথ্য। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবৈধ অস্ত্র, গুজব, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জামিন এবং সীমান্ত নিরাপত্তার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা তদারকির মূল দায়িত্ব ইসির ওপর থাকলেও, দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরানো সম্ভব নয়।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক অবস্থান

দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছেন। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নির্বাচনী অনিশ্চয়তা কাটাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলোও নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

শেষ কথা

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের যাত্রায় একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। যেহেতু দৃশ্যমান কোনো বড় রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনের বিরোধিতা করছে না, সেহেতু বর্তমান অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠা কেবল সদিচ্ছার ব্যাপার। অন্তর্বর্তী সরকার, ইসি ও সশস্ত্র বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির চাবিকাঠি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোবাইল অ্যাপে মিলবে জ্বালানি তেল, আসছে কিউআর কোড 'ফুয়েল পাস

1

কোনো চাঁদাবাজির খবর যাতে না শুনি: নেতা-কর্মীদের সালাহউদ্দিন

2

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের চিঠি কেন বাতিল নয়

3

প্রাথমিকভাবে ১৩ এলাকায় মিলবে 'ফ্যামিলি কার্ড': তালিকায় আপনার

4

বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল:

5

কক্সবাজারে পাহাড় কাটা বন্ধে ১২ কর্মকর্তাকে বেলার চিঠি

6

মানচিত্রে ৩টি পদ্ধতিতে স্কেল নির্দেশ করে

7

শত্রুকে ঘাঁটি বা আকাশপথ দিলে কারো রক্ষা নেই: ইরান সশস্ত্র বা

8

মঙ্গলবার ২ বিভাগে ঝরতে পারে বজ্রবৃষ্টি

9

নীলফামারী জেলা প্রশাসকের শীতবস্ত্র বিতরণ

10

ট্রাম্পের মাথায় কী চলছে? হোয়াইট হাউসে ফেরার লড়াইয়ে নতুন কোন

11

অন্তর্বর্তী সরকারের কারণেই বিশ্বকাপ খেলা হয়নি, জানালেন বিসিব

12

নীলফামারীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: ব্যবসায়ীর জেল ও জরিমানা

13

১৪ এপ্রিলের আগেই বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোট

14

ঢাকার দুই পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ, কিউআর কোড দিয়ে নেওয়া যাব

15

ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বাংলাদেশ: ২০২৬ সালে অর্থনীতির হালচাল ও বড়

16

মেসি–রোনালদোরা যা পারেননি, তাই করে দেখালেন দেম্বেলে!

17

ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব: জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্

18

চট্টগ্রামে সড়কে দুই দিন পড়ে ছিল কোটি টাকার পরিত্যক্ত মার্সিড

19

৫ আরব দেশের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন