আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন ডিসি
ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ‘গোপনীয়তা ভঙ্গের’ জন্য দায়ী সাংবাদিককে খুঁজে বের করতে সাঁড়াশি অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তথ্যের উৎস (সোর্স) প্রকাশ না করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে কারাগারে যেতে হবে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, প্রথম বিমানবাহিনী কর্মকর্তাকে সফলভাবে উদ্ধারের পর দ্বিতীয় সেনাসদস্যের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি প্রশাসন কৌশলগত কারণে গোপন রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু এই তথ্যটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল হয়ে পড়ে।
ট্রাম্প বলেন, “একজন তথ্যদাতার কারণে পুরো অভিযানটি অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছিল। হঠাৎ করে পুরো ইরান জেনে গেল যে তাদের দেশের কোথাও একজন মার্কিন পাইলট লুকিয়ে আছেন। এর ফলে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক হয়ে যায় এবং তাঁকে খুঁজে পেতে পাল্টা তৎপরতা শুরু করে।”
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প কঠোর ভাষায় বলেন, “আমরা ওই সংবাদমাধ্যমের কাছে যাব এবং বলব—জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্যের উৎস জানান, নয়তো কারাগারে যান। যে এই খবরটি করেছে, সে যদি সোর্সের নাম না বলে, তবে তাকে জেলে যেতে হবে।”
যদিও ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করেননি, তবে হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিএনএনসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম গত সপ্তাহে নিখোঁজ সেনাদের অবস্থান ও উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
গত রোববার ভোরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এক অভিযানের মাধ্যমে দ্বিতীয় ওই মার্কিন বিমান সেনাকে উদ্ধার করা হয়। সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এই অভিযানকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, এটি ছিল “বিশাল মরুভূমির মাঝখান থেকে একটি বালুকণা খুঁজে বের করার মতো কঠিন কাজ।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর প্রথম প্রচার করেছিল ইরানি গণমাধ্যমগুলো। এরপরই মার্কিন পাইলটদের পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, উদ্ধারের আগে এই তথ্য প্রকাশ পাওয়া মানে হলো সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা।
মন্তব্য করুন