নিজস্ব প্রতিবেদক | নেত্রকোনা
জাতীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে যখন কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে, তখন নেত্রকোনায় অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মোটা অংকের বিনিময়ে এই জালিয়াতি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, 'জান্নাত বেগম' নামের এক নারীকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা দেখিয়ে একটি এনআইডি (নম্বর: ৩৩৩১-০৮৯-৫৮৫) প্রদান করা হয়েছে। সেখানে পিতা হিসেবে আব্দুল হাসিম ও মাতা হিসেবে আনজুর নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে সরেজমিনে যাচাই করে দেখা গেছে, আব্দুল হাসিম ও আনজু দম্পতি মূলত মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ১০ বছর আগে মারা যাওয়া আব্দুল হাসিমের পরিবার জানিয়েছে, জান্নাত বেগম নামে তাদের কোনো মেয়ে নেই। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী নূরও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এটি স্পষ্টতই একটি ডিজিটাল জালিয়াতি।
তদন্তে এই চক্রের জালিয়াতির আরও কিছু ভয়াবহ দিক উন্মোচিত হয়েছে:
ভুয়া জন্ম নিবন্ধন: জান্নাত বেগমের নামে জমা দেওয়া জন্ম নিবন্ধনটি নেত্রকোনা পৌরসভার সার্ভারে পাওয়া যায়নি। এটি অন্য একটি আসল সনদ স্ক্যান করে ডিজিটাল এডিটিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
অস্তিত্বহীন শনাক্তকারী: ভোটার ফরম-২ এ যে শনাক্তকারী ও যাচাইকারীর এনআইডি নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সেগুলোর কোনো হদিস নেই।
ভুয়া মোবাইল নম্বর: ফর্মে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি প্রকৃতপক্ষে জনৈক আরফান শাকিলের, যিনি বর্তমানে চীনে উচ্চশিক্ষারত এবং জান্নাত বেগমকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কেবল জান্নাত বেগমই নন, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন রোহিঙ্গাকে একইভাবে এনআইডি কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। একেকটি কার্ডের বিনিময়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সিহাব উদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত নথিপত্র পাওয়া গেলেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে একে 'কাজের চাপ' বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও কলমাকান্দায় রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বারবার এমন ঘটনায় জেলাজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সুত্র- কালের কণ্ঠ
মন্তব্য করুন