সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডের বক্স অফিস রেকর্ডের দিকে তাকালে একটি বিশেষ ধরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 'অ্যানিম্যাল', 'গাদার ২', বা 'জওয়ান'-এর মতো সিনেমাগুলো হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করলেও ঘুরেফিরে একটি প্রশ্ন সামনে আসছে—বলিউড কি তবে আবারও উগ্র পুরুষতান্ত্রিক বা 'আলফা মেল' ঘরানার সিনেমার দিকে ঝুঁকে পড়ছে?
উগ্র পৌরুষের জয়জয়কার মাঝখানে বেশ কয়েক বছর বলিউড নারীপ্রধান বা সামাজিক বার্তাসম্পন্ন গল্পের দিকে মনোযোগ দিলেও, বর্তমানের সুপারহিট সিনেমাগুলো যেন সেই পুরোনো 'ম্যাকো ইমেজ' বা অতি-পৌরুষের ধারণা প্রচার করছে। সমালোচকদের মতে, পর্দায় নায়কের আধিপত্য এবং সহিংসতাকে যেভাবে মহিমান্বিত করা হচ্ছে, তাতে নারীর চরিত্রগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কেবল পার্শ্বচরিত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
বক্স অফিস বনাম গুণগত মান পরিচালক ও প্রযোজকদের যুক্তি হচ্ছে, দর্শক যা দেখতে চায় তারাই তা নির্মাণ করছেন। অ্যাকশন এবং মাস-মশলাদার সিনেমাগুলোই প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফেরাচ্ছে। কিন্তু সিনেমা বিশ্লেষকদের মতে, স্রেফ ব্যবসার খাতিরে যদি লিঙ্গবৈষম্য বা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে উসকে দেওয়া হয়, তবে তা শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
পুরোনো পথেই কি গন্তব্য? নব্বইয়ের দশকের সেই 'অ্যাংরি ইয়ং ম্যান' ইমেজটি আধুনিক মোড়কে ফিরে আসায় প্রশ্ন উঠছে বলিউডের বিবর্তন নিয়ে। নারী শিক্ষা বা সমতা নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলো যখন বক্স অফিসে ধুঁকছে, তখন পেশিবহুল নায়কের সহিংস রূপ কেন এত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে—তা নিয়ে খোদ চলচ্চিত্র পাড়াতেই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মন্তব্য করুন