অনেকেই মনে করেন শিশুর দুধদাঁত তো কয়েকদিন পরেই পড়ে যাবে, তাই এর যত্ন নেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন নেই। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। শিশুর শারীরিক গঠন, কথা বলা এবং পরবর্তী স্থায়ী দাঁত সুন্দর হওয়ার পেছনে দুধদাঁতের ভূমিকা অপরিসীম।
১. পুষ্টি ও হজমে সহায়তা: শিশু যখন শক্ত খাবার খেতে শুরু করে, তখন খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার জন্য দুধদাঁত প্রয়োজন। দাঁত নষ্ট হয়ে গেলে বা ব্যথা হলে শিশু ঠিকমতো খেতে চায় না, যা তার পুষ্টির অভাব ঘটায়।
২. স্থায়ী দাঁতের পথপ্রদর্শক: দুধদাঁত মূলত স্থায়ী দাঁতের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখে। যদি কোনো কারণে নির্দিষ্ট সময়ের আগে দুধদাঁত পড়ে যায় বা তুলে ফেলতে হয়, তবে পাশের দাঁতগুলো সেই খালি জায়গা দখল করে নেয়। ফলে পরবর্তী স্থায়ী দাঁতগুলো আঁকাবাঁকা হয়ে ওঠে।
৩. কথা বলা ও আত্মবিশ্বাস: পরিষ্কারভাবে কথা বলা বা শব্দ উচ্চারণে দাঁতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সামনের দুধদাঁত অকালে হারিয়ে ফেললে শিশুর উচ্চারণে সমস্যা হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে তার আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৪. মাড়ির সুস্থতা: দুধদাঁতে ক্যাভিটি বা ইনফেকশন হলে তা মাড়ির গভীরে ছড়িয়ে পড়ে স্থায়ী দাঁতের অঙ্কুরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুর প্রথম দাঁত ওঠার পর থেকেই নরম সুতি কাপড় বা বেবি টুথব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার বা রাতে শোয়ার আগে ফিডারে দুধ খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন