Deleted
প্রকাশ : Apr 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সংস্কার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে

সংস্কারের উদ্যোগ থমকে যাওয়ায় আসিফ নজরুলের উদ্বেগ: ‘পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বর্তমান সরকার কর্তৃক বাতিল বা স্থগিত করার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি মনে করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনগুলো ছিল অপরিহার্য। এগুলো উপেক্ষা করা হলে দেশে পুনরায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকে যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ নজরুল বলেন, "যে ত্যাগ ও প্রাণহানির মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আরও গভীর ও কাঠামোগত সংস্কার প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু সেগুলো আপাতত করা হচ্ছে না। সরকার আশ্বস্ত করলেও অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, এগুলো শুধু আশ্বাস পর্যায়েই থেকে যায়। তাই পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই।"

ইতিবাচক দিক ও প্রাপ্তি

সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল কিছু ইতিবাচক দিকের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সংসদের বিশেষ কমিটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি, আইনগত সহায়তা এবং সাইবার সুরক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো হুবহু গ্রহণ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নাগরিকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করবে। এছাড়া জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, শহীদ ও যোদ্ধা পরিবারের কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং দায়মুক্তির বিধান রাখাটাকেও তিনি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছেন।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সচিবালয় অধ্যাদেশ

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হওয়াকে ব্যক্তিগতভাবে বড় পরাজয় ও হতাশার বলে উল্লেখ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, "এটি দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এবং ২০২৪ সালের আদালতের রায়েও এর নির্দেশনা ছিল। জনবল নিয়োগ ও বাজেটের মতো কাঠামোগত কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। অথচ কোনো এক অজুহাতে পুরো আইনটি বাতিল করা হলো।" এছাড়া বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি পুরোপুরি বাতিল না করে সংশোধন করার সুযোগ ছিল বলেও তিনি মনে করেন।

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন

মানবাধিকার কমিশন আইনের সংশোধন ও গুম প্রতিরোধ আইন এখনই গ্রহণ না করাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আসিফ নজরুল। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনের পক্ষরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ওপর একটি বৈশ্বিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "গুম প্রতিরোধ আইন না হলে গুমের শিকার পরিবারগুলোকে বিএনপি কী উত্তর দেবে?" তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি ভবিষ্যতে হয়তো আরও শক্তিশালীভাবে এসব আইন প্রণয়ন করবে।

দুর্নীতি দমন ও গণভোট অধ্যাদেশ

দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে টিআইবি-র আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো আইনই নিখুঁত নয় এবং সংশোধনের সুযোগ সব সময় থাকে। তবে আমলাতান্ত্রিক চাপ ও বাস্তবতার কারণে সব সুপারিশ রাখা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশে থাকা ‘দায়মুক্তি’ সংক্রান্ত বিধানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ

সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের বিতর্ককে তিনি মূলত ‘প্রক্রিয়াগত’ বলে মনে করেন। তার মতে, সংসদ বা সংস্কার পরিষদ—যে মাধ্যমেই হোক না কেন, লক্ষ্য অর্জন এবং জাতীয় ঐকমত্যই আসল বিষয়। জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির আদেশকে তিনি অসাংবিধানিক মানতে নারাজ। তার মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা

আসিফ নজরুল মনে করেন, দেশ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন আশঙ্কা অতিরঞ্জিত। কারণ সাইবার সুরক্ষা বা ফৌজদারি কার্যবিধির মতো কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ না থাকে।" এ ক্ষেত্রে তিনি বিএনপিকে সতর্কতার সাথে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা? খামেনির দ্বিত

1

অন্তর্বর্তী সরকারের কারণেই বিশ্বকাপ খেলা হয়নি, জানালেন বিসিব

2

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ড: বিল না পেয়ে গ্রাহকদের আটকে রাখার নির্

3

হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের পাতা মাইন শনাক্ত করতে পারছে না ইরান:

4

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছেন শিক্ষিকা

5

পত্নীতলায় বিজিবির অভিযানে ১০০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্য

6

বিবাহবার্ষিকীতে গ্ল্যামারাস লুকে ভক্তদের মুগ্ধ করলেন তাহসানে

7

কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র

8

বাংলাদেশি বাজার হারালে কতটা লোকসানের মুখে পড়বে ভারত?

9

৫০তম বিসিএস: আবেদন কমে তিন লাখের নিচে, এক বছরে নিয়োগ সম্পন্ন

10

শিলিগুড়ির হোটেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

11

আটকা পড়া বাংলাদেশিদের আনতে দুবাই যাচ্ছে বিশেষ ফ্লাইট

12

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে দেশীয় ঋণ বেড়েছে ১.১৩ লাখ কোটি ট

13

"ভাইয়া একটা ফুল নিবেন?"—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই শিশু, বাড়

14

খুব শিগগির কিউবার পতন ঘটবে: ট্রাম্প

15

নীলফামারী জেলা প্রশাসকের শীতবস্ত্র বিতরণ

16

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের চিঠি কেন বাতিল নয়

17

মাদুরোর পর কি লক্ষ্যবস্তু ইরান? ট্রাম্পের হার্ডলাইন নীতিতে য

18

সরকারি দামে মিলছে না সার: বোরো চাষে দিশেহারা কৃষক, বাড়ছে উৎপ

19

মার্চ মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন