Deleted
প্রকাশ : Apr 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পুলিশ সংস্কার না হলে জন–আস্থা ফিরবে না

আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সংবাদ প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:


পুলিশ সংস্কার: দুই দশকের প্রত্যাশা কি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশে পুলিশ সংস্কারের আলোচনা চললেও তা আজও অধরা রয়ে গেছে। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কখনো বাস্তবায়ন পর্যন্ত পৌঁছায়নি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুলিশ কমিশন গঠন ও সংস্কারের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অস্পষ্টতায় এটি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে কি না, সেই প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে।

মূল চ্যালেঞ্জ: পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা

পুলিশ সংস্কারের মূল দাবি হলো বাহিনীর ‘ফাংশনাল ইনডিপেনডেন্স’ বা কার্যগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলা তদন্ত ও পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে পুলিশের প্রতি জন-আস্থা ফেরানো অসম্ভব। পুলিশের নিরপেক্ষতা তখনই সম্ভব, যখন তারা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের নির্দেশে নয়, বরং আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।

নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অস্বচ্ছতা

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, পুলিশের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিকে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিদর্শক থেকে পুলিশ সুপার পর্যন্ত নিয়োগ ও বদলির একটি নীতিমালা প্রণীত হলেও বর্তমানে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে ‘ফিট লিস্ট’ প্রণয়ন করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগের প্রস্তাব থাকলেও প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশপ্রধান (আইজিপি) নিয়োগের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ ও রাজনীতিকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বহুমাত্রিক কমিশনের সুপারিশের কথা বলা হলেও, অধ্যাদেশে সেই সুপারিশ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

জবাবদিহি ও অভ্যন্তরীণ সংকট

পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষের অভিযোগ নেওয়ার পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় সদস্যদের জন্য অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অন্যায্য আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে বাহিনীর ভেতরকার ক্ষোভ ও চাপ কমবে। কিন্তু সংশোধিত অধ্যাদেশের বর্তমান স্বরূপ এখনো অস্পষ্ট।

সংস্কারের দাবি খোদ পুলিশের ভেতর থেকেই

একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে পুলিশ সংস্কার চায় না। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর চিত্রটি ভিন্ন। রাজারবাগে কনস্টেবলরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তাঁরা আর কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ হাসিলের ‘ঘুঁটি’ হতে চান না। পুলিশের একটি বড় অংশই এখন পেশাদারত্বের শৃঙ্খলমুক্ত হতে চায়।

আমলাতান্ত্রিক জাঁতাকলে ‘নখদন্তহীন’ সংস্কার?

অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংস্কারের যে প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়েছিল, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা অনেকটা ‘নখদন্তহীন’ রূপ নিয়েছে। বছরের পর বছর মন্ত্রণালয়গুলোতে সংস্কার ফাইল আটকে থাকার সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অন্তত ৬ মাস ‘তীব্র যুদ্ধ’ চালিয়ে যেতে সক্ষম ইরান: আইআরজিসি

1

ব্রেকিং নিউজ: ৩ ধাপে আসছে নবম পে-স্কেল, লাখো কর্মচারীর স্বপ্

2

গাজীপুরে হামের লক্ষণ নিয়ে ২৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

3

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যা জানি তাতে রাতে ঘুম আসে না: ইতালির প্রতিরক

4

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ৩৬ জন

5

বেসরকারি সংস্থা পপিতে চাকরির সুযোগ

6

বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা নিয়ে সুখবর, দ্রুত স্বাভাবিক হচ

7

নাসুমের ‘ম্যাজিকাল’ স্পেল: ৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইতিহাস

8

কিছু পরিবারে কেন শুধু ছেলে সন্তানই বেশি হয়? যা বলছে বিজ্ঞান

9

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন সেনার খবর ফাঁসকারী সাংবাদিককে কারাগারে

10

৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাতে ডিমলা পিআইও অফিসের অফিস সহকারি গ্রেফতা

11

শত্রুকে ঘাঁটি বা আকাশপথ দিলে কারো রক্ষা নেই: ইরান সশস্ত্র বা

12

দেশে হামের ভয়াবহ রূপ: ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক আক্রান্ত ৯৪৭, মৃত্

13

ঈদুল ফিতরের ছুটি কি বাড়বে, যা জানা গেল

14

হাইওতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বাসভবনে হামলা

15

জীবনসঙ্গিনী নির্বাচনে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি: জানুন

16

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা: প্রেসিডেন্ট মাদুরো সস্ত্রীক গ্র

17

টুকরো গপ্পো

18

ঈদে এবার টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ: জেনে নিন সরকারি-বেসরকারি

19

ঈদযাত্রায় ট্রেনের দ্বিতীয় দিনের টিকিট বিক্রি চলছে

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন